অন্য সব ভিটামিন খাবারে নিয়মিত পাওয়া গেলেও ভিটামিন ডি-এর মূল উৎস সূর্যের আলো। বলা হয়, দেহের মোট চাহিদার ৮০ শতাংশ ভিটামিন ডি পাওয়া যায় সূর্যের আলো থেকে। মূলত ত্বকের অভ্যন্তরে রয়েছে কোলেস্টেরল। এই কোলেস্টেরলের ওপর পড়ে সূর্যরশ্মি।
সরাসরি সূর্যের আলোতে আমাদের শরীর প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি উৎপন্ন করে। তবে কিছু নির্দিষ্ট খাবার ও সাপ্লিমেন্ট থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
সূর্যের আলো ভিটামিন ডির প্রাকৃতিক উৎস সেটা আমরা কম-বেশি সবাই জানি। কিন্তু ভিটামিন ডি পেতে দিনের ঠিক কোন সময়ের রোদ গায়ে লাগাতে হবে সে বিষয়ে অনেকেই সঠিক তথ্য জানেন না।
ভিটামিন 'ডি' পেতে কখন রোদে যেতে হবে
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টার মধ্যে যে সময়টা, সেই সময়ের রোদ ভিটামিন ডির খুব ভালো উৎস।
১০ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকলেই প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পাওয়া যায় । সঠিক উপায়
রোদে গেলেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পাওয়া যাবে না। বরং মানতে হবে সঠিক নিয়ম। ১০ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকলেই প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পাওয়া যায়
বাইরে বের হয়ে যখন দেখবেন আপনার ছায়া আপনার আপনার তুলনায় ছোট, সেই সময়ের রোদে আপনার ত্বক সবচেয়ে ভালো ভিটামিন ডি উৎপন্ন করে ।
তবে আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষের গায়ের রং শ্যামবর্ণের হয়। এটি ভিটামিন ডি শরীরে শোষণ হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বাধা। কারণ শ্যামবর্ণের ত্বকে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ বেশি থাকে৷ মেলানিন অতি বেগুনি রশ্মিকে বাধা দেয়। যাদের গায়ের রং উজ্জ্বল তাদের প্রতিদিন ২০ মিনিট সূর্যের আলোতে থাকলেই চলে।
ভিটামিন ডি পেতে হলে অবশ্যই ত্বকে সরাসরি সূর্যের আলো লাগাতে হবে৷ সেক্ষেত্রে পোশাক বা সানস্ক্রিন সরাসরি ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরিতে বাধা দেয়। তাই মুখে সানস্ক্রিন মেখে বের হলেও হাত-পা বা শরীরের অন্য কোনো স্থান যেন উন্মুক্ত থাকে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে৷ মাঝেমধ্যে সানস্ক্রিন ছাড়াই রোদে বের হতে চেষ্টা করুন।
বয়স বাড়তে থাকলে ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরির ক্ষমতা কমতে থাকে৷ ফলে বেশি বয়স হলে হাড় ক্ষয়ের রোগও বাড়তে থাকে। বয়স বাড়তে শুরু করার পর তাই সারাক্ষণ বাড়িতে বসে না থেকে নিয়মিত গায়ে রোদ লাগাতে হবে৷
আমাদের শরীরে ভিটামিন ডির বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এ ছাড়া ভিটামিন ডির আরও কিছু উপকারিতা আছে।ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন, যার মধ্যে আছে ভিটামিন ডি১, ডি২ ও ডি৩। এটি হাড় ও দাঁতের বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতাও তৈরি করতে পারে।
